আজ সোমবার,৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,১৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,বিকাল ৪:৪৬

ব্রেকিং নিউজ

অপরাজনীতির সাথে জড়িতরা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে : কাদের মির্জা

News

অলাইন ডেস্ক রির্পোটঃ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, আজকে আমার সাথে আল্লাহ আর আমার দলের কিছু ত্যাগী নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষ ছাড়া কেউ নেই। আমার সত্য বচনের পর আস্তে আস্তে অনেকেই আমার কাছ থেকে সরে গেছে। এ জন্য আমি আতঙ্কিত নই। আমি আরো উজ্জিবিত হচ্ছি। আজকে যারা অপরাজনীতির সাথে জড়িত, যারা এখানে টেন্ডারবাজি করেছে, যারা গরিব, নিরীহ ভূমিহীনদের সম্পত্তি দখল করেছে, যারা সরকারি জায়গা দখল করেছে, সরকারি খাল দখল করেছে। তোয়া বাজার কখনো ইজারা যায় না। তারা আজকে প্রশাসনের সহযোগিতায় তোয়া বাজার দখল করেছে। তারা আজকে কেউ আমার সাথে নেই। সব শিয়ালের এক ডাক। ঢাকা থেকে আরম্ভ করে আমার এলাকা পর্যন্ত। আজকে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত চলছে অনেকভাবে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে নিজরে ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন, আমি এখাকার নেতা, যিনি ১৯৬৯ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মালায় বঙ্গবন্ধুর কৌশলী হিসেবে কাজ করেছে। ৭১ সালে মুক্তযুদ্ধের পর একটা স্বাধীন দেশে যে সংবিধান রচিত হয়েছে। সে সংবিধান প্রণয়নের সাথে জড়িত ছিল। যে মানুষটি বলেছে, শেখ  মুজিবুর রহমান যদি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পর ফিরে না আসতো তাহলে ভারতীয় মিত্র বাহিনী কখনো ভারতে ফিরে যেত না। তিনি বলেছেন শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের জাতীয় ইতিহাসে অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। সে মানুষটি মৃত্যুবরণ করেছে। মৃত্যুর পর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা এটা আমার মনে হয় আল্লাহও অসুন্তষ্ট হবে। সে কাজটি কে বা কারা করেছে প্রশাসনের মাধ্যমে আপনারা খবর নেবেন। এ সংস্কৃতি যদি বাংলাদেশে চলতে থাকে, তাহলে কি বঙ্গবন্ধু কি স্বাধীনতা এ জন্য দিয়েছে। আমার প্রশ্ন? অপরাজনীতি, দুর্নীতি, ভোট চুরি এগুলোর জন্য কি বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা এনেছেন। কথা বলতে হবে সবাইকে। শুরু হয়েছে, তরুণদের মধ্যে আজকে চেতনা সৃষ্টি হয়েছে। আমি যে ষড়যন্ত্রের কথা বলেছি, সেদিন থেকে মওদুদ সাহেবের শোকসভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেটা বন্ধ করেছে। সেদিন থেকে পুলিশি তাণ্ডব এখানে চলছে। আমার চতুর্দিক আজকে ঘেরাও করে রেখেছে।

তিনি আরো বলেন, আমি বিশস্তসূত্রে খবর পেয়েছি গত পার্লামেন্ট নির্বাচনে হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদকে যেভাবে রাতের অন্ধকারে তার বাসা থেকে জোর করে সিএমএইচে নিয়ে গেছে। অনুরূপ কিছু করার জন্য আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে ওবায়দুল কাদের সাহেব তার স্ত্রীর প্ররোচনায়। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি দেশবাসীকে জানিয়ে যাচ্ছি। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে আমি আত্মহত্যা করব। আমার ওপর যদি ঘটাতে চায় তাহলে আমি বলে দিচ্ছি আত্মহত্যা করব। আমি কোনো অসত্যের কাছে মাথানত করবো না। কি করবেন? মেরে ফেলবেন, জেলে দিবেন, লাঞ্ছিত করবেন, আর কি বাকী আছে। দুই হাজার গুলি একতরফা আমার পৌরসভাতে আমার বিরুদ্ধে করেছেন। ওবায়দুল কাদের সাহেব আপনার লেলিয়ে দেওয়া ফেনীর কুত্তা নিজাম হাজারী, নোয়াখালীর কুত্তা একরাম চৌধুরী, বাদলইল্যা কুত্তার নেতৃত্বে এখানকার সমস্ত জাসদ, জাসদের যারা আমার ভাই কামালকে হত্যা করেছে, আমার ভাই জামালকে গুলি করেছে, আমার মামা এমদাদ সাহেবকে গুলি করেছে, আমাদের নুরনবী মাস্টারকে গুলি করেছে। তাদের নিয়ে দুই হাজার গুলি আমার পৌরসভাতে এক তরফা করেছে। আর মামলা করেছেন একটা থানা থেকে করা হয়েছে পুলিশ এসল্ট মামলা। সে মামলার আসামিও আমার দলের কর্মী। এ পর্যন্ত যতগুলো মামলা হয়েছে আমার বিরুদ্ধে হয়েছে, আমার কর্মীদের বিরুদ্ধে হয়েছে।

কাদের মির্জা বলেন, দুর্ভাগ্য আসলে আমাকে কেউ পছন্দ করছে না। আমি সত্য কথা বলাতে, এটাই হচ্ছে আসল কথা। কি করবেন করেন, যা করার করবেন দেরি করছেন কেন। ওবায়দুল কাদের এবং তার স্ত্রী বলে দিয়েছেন প্রশাসনকে তার সাথে যেন চতুর্দিকে একটা লোক না থাকে, সে ব্যবস্থা কর। সে ব্যবস্থার অংশ হিসেবে আমার ছেলেদের বাড়িতে বাড়িতে আজকে তারা জামিন নিয়ে এসে সব এলাকাতে আমার ছেলেদেরকে হুমকি দিচ্ছে, গালিগালাজ করছে তারপর জেলে ঢুকিয়ে দিবে পুলিশের ভয় দেখাচ্ছে। পুলিশ গিয়ে তদন্তের নামে টাকা নিচ্ছে। এটা কি দেশ, আইন কোথায় গিয়েছে। আজকে কি বাংলাদেশের মানবাধিকার সংস্থা নেই। বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা আজকে কোথায়। এটা আমি প্রশ্ন করতে চাই। বাদলইল্যা পোলারে গ্রেপ্তার করছে। এটা হলো আইওয়াশ ওবায়দুল কাদেরের। পরশু আকরাম চৌধুরী আর টেন্ডারবাজ জেহান কারাগারে গিয়ে বাদলের সাথে দেখা করে আমাকে হত্যার নতুন ছক নির্মাণ করেছে। গতকালকে এটা কার্যকরী করার জন্য নোয়াখালীর মেরুদণ্ডহীন সেলিম জাসদের খিজির হায়াত আর জমাত দুর্নীতিবাজ মামুন একটা আছে রংমালা মাদরাসার প্রিন্সিপাল।

তিনি বলেন, আহারে বাদলইল্যার লোক গেলে তাদেরকে ভিআইপি দিয়ে ঢুকায়। আমার দশটা ছেলে জেলে তাদের আত্মীয়-স্বজন গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকে ফেরত আসে। এক দেশে দুই আইন, প্রশাসন নীরব। যে যার অবস্থানে নীরব। আগে ডি আইজি সাব আমার ফোন ধরত। গতকাল আমার মোবাইল আর ধরে না। আমি কেন মওদুদ আহমদের প্রোগ্রাম করলাম, শোকসভা করলাম, এটা অপরাধ হয়ে গেছে। হাইরে রাজনীতি। কেউ কেউ বলেন কেউ যদি অধম হয় আমরা কেন উত্তম হইব না। সরম যদি লাগেগো ঘোমটা দিয়ে হাঁটো। আমি কাউকে ভয় করি না। কারো রক্তচক্ষুকে ভয় করি না। প্রশাসন আপনাদের আছে ব্যবহার করতে পারবেন। সাংবাদিক আপনাদের সাথে আছে। আজকে তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার মতো সাংবাদিক আজকে নেই। যদি থাকত তাহলে সত্য কথা লিখত। আপনাদের প্ররোচনায় সাংবাদিক আজকের সত্য কথা লেখা থেকে বিরত আছে। যেটা হলো সত্য। সাংবাদিক সবাই কেন যেন আজকের চুপ করে গেছে। এই অবস্থা আমার উপর চলছে। এই কথাগুলো আজকে আমাকে না বললে নয়। এটা আমাকে বলতে হচ্ছে। এই অবস্থা চলছে। এদেশের মানুষের কাছে বিচার দেব, আল্লাহর কাছে বিচার দেব।

তিনি আরো বলেন, বিচার করার কেউ নেই সবাই কে আমি চিনি। উপর থেকে নিচ পর্যন্ত যারা অপরাজনীতির হোতা আজকে সব পর্যায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে। কোনো সৎ নেতা, কোনো ত্যাগী নেতা আজকে আওয়ামী লীগের হয়তো, নগণ্য জায়গায় থাকতে পারে অধিকাংশ জায়গায় এই অপরাজনীতির সাথে যারা জড়িত তারা নেতৃত্বে আছে। আমাকে ভেঙে ফেলতে পারবেন কিন্তু আমি মচকাবো না বলে দিচ্ছি। কত অস্ত্র ব্যবহার করবেন। আমি বৃষ্টির কাছে কাঁদতে শিখেছি আমাকে কাঁদানোর ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই।

তিনি আরো বলেন, ২০০০ বুলেট আমাকে উদ্দেশ্য করে নিক্ষেপ করা হয়েছে গুলি করা হয়েছে। সেদিন আমার ভয় চলে গেছে, আমি আর ভয় করি না। দাবায়ে রাখতে পারবা না। বঙ্গবন্ধুর কথা সাহস করে সত্য কথা বলে যাবো। কার পক্ষে যাচ্ছে তার বিরুদ্ধে যাচ্ছে আমি জানি না। অনেক কথা আছে ঢাকা গিয়ে সুযোগ পেলে সাংবাদিকদেরকে সব বলব। সব বলব কারা কি বলেছে, কারা কি করেছে। সব শিয়ালের এক ডাক। ভালো মানুষগুলো তো চলে গেছে। জিল্লুর রহমান সাহেবেরা চলে গেছে। হামিদ সাহেব মুখ বন্ধ করে বঙ্গভবনে বসে আছে। তাদের তো বলার সুযোগ নেই। তারপরও বাহির হলে দুই একটা কথা বলে। আর কে বলবে শেখ হাসিনা এদের হাতে জিম্মি। আজকে আপনাদেরকে অ্যাডভান্স বলে যাচ্ছি। বঙ্গবন্ধু হত্যার পথ রচনা করেছে জাসদ।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে খন্দকার মোশতাক খন্দকার। মোশতাককে আওয়ামী লীগের এবং বঙ্গবন্ধু পরিবারের খুবই কাছের মানুষ। তার নেতৃত্বেই সাম্রাজ্যবাদী দেশীয় কুকুরেরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। যারা আজকে শেখ হাসিনার চতুর্দিকে আজকে সারাক্ষণ নিজেদের ধান্ধা নিয়ে ব্যস্ত। এরাই শেখ হাসিনাকে মেরে ফেলবে। সব অনিয়মকারী যে দল করে সবাই কমিটেড। আজকে কষ্ট লাগে চাকরি পায় ইসলামী ছাত্র শিবিরের ছেলেরা। তারা যত কাজকর্ম করে, আকাম টাকাম করে, লেখাপড়াটা ঠিক রাখে। আর হিন্দু পরিবারের ছেলেরা চাকরি পায়। এরা তো রাজনীতির সাথে তেমন জড়িত নেই, টুকটাক আছে। তারপরেও লেখাপড়ে করে। আর আমাদের মুজিবের সৈনিক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আর জাতীয়তাবাদী দল জিয়ার সৈনিক। হেতাগো লেখাপড়া আছে, লেখাপড়া নেই। চাকরিও তারা পায়না। কোম্পানীগঞ্জে আমরা শান্তির সুবাতাস দেখতে চাই। এজন্য পদক্ষেপ আমাকে নিলে চলবে না। আমাকে দমিয়ে রাখতে পারবেন, থামিয়ে রাখতে পারবেন না। যার সাথে কথা বলি বলে আপনি ঠান্ডা থাকেন, আমি তো ঠান্ডা। আমার দলের প্রয়োজন নাই। দল যাদেরকে ইচ্ছে তাদেরকে দিয়ে চালান ওবায়দুল কাদের সাহেব। আপনার সংসার, আমার দরকার নেই। আমি নেত্রীর সাথে যদি উনি ডাকেন যাব। না ডাকলে আমি যাওয়ার প্রশ্নই উঠে না, আমি যাব না। আমি এখানে বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ আছে সে শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদের সাথে থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ও শেখ হাসিনার উন্নয়নের রাজনীতি করবো।

     More News Of This Category