আজ মঙ্গলবার,১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,সকাল ৭:৩৩

ব্রেকিং নিউজ

দিনাজপুরে বৃহস্পতিবার থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত কুরবানীর পশুরহাটে গরু বেচাকেনা হবে॥ থাকবে না কোন মৌসুমী পশুরহাট

News

মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর প্রতিনিধি॥ দিনাজপুরে সবোর্চ্চ স্বাস্থ্যবিধি মেনে বৃহস্পতিবার থেকে কুরবানীর স্থায়ী পশুরহাট বসানো হয়েছে। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত প্রতিদিন এই হাটে পশু বেচাকেনা হবে। তবে এবারে মৌসুমী বা অস্থায়ী কোন পশুর হাট থাকবে না।
পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে সরকার কঠোর লকডাউন শিথিল করায় সারা দেশের ন্যায় দিনাজপুরেও এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। বুধবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর সাথে ভার্চুয়াল বৈঠক শেষে এ তথ্য জানায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসন। বৈঠকে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকী, জেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আশিকা আকবর তৃষাসহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
লকডাউনের কারণে অন্যান্য হাটবাজারের পাশাপাশি কুরবানীর পশুরহাটও বন্ধ ছিল। ফলে এখন পর্যন্ত কোন পশু বেচাকেনা হয়নি। আর এতে পশুর খামার মালিক ও ক্রেতারা উদ্বিগ্ন ছিলেন। তবে এরই মধ্যে কেউ কেউ অনলাইনের মাধ্যমে পশু কিনে ফেলেছেন।
দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরিফুল ইসলাম জানান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদক মন্ত্রীর সাথে ভার্চয়াল বৈঠকের আলোকেই বৃহস্পতিবার থেকে জেলায় কুরবানীর পশুরহাট বসানো হয়েছে। তবে এবারে মৌসুমী বা অস্থায়ী কোন পশুরহাট বসানো হবে না। পশুরহাটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। মাস্ক ছাড়া কাউকে হাটে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। এই বিষয়টি ইতোমধ্যে জেলার ১৩টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
এদিকে দিনাজপুর জেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আশিকা আকবর তৃষা জানান, জেলায় গতবছরের হিসেব অনুযায়ী স্থায়ী পশুরহাট রয়েছে ১৮টি। আর কুরবানীর সময় মৌসুমী পশুরহাট বসে ৪১টি। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে এবারে কোথাও মৌসুমী রা অস্থায়ী কোন পশুরহাট বসানো হবে না। শুধমাত্র স্থায়ী পশুরহাটগুলোতে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত প্রতিদিনই কুরবানীর পশু বেচাকেনা করা হবে। তিনি জানান, প্রতিটি হাটে প্রাণিসম্পদ বিভাগের মেডিকেল টিম থাকবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে কাজ করবে প্রশাসন। স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে তিনি অনলাইনে কুরবানীর পশু বেচাকেনা করার আহবান জানান।
ডাঃ আশিকা আকবর তৃষা আরো জানান, জেলার ১৩টি উপজেলা প্রণিসম্পদ বিভাগের উদ্যোগে ১৩টি ও জেলা পর্যায়ে একটিসহ মোট ১৪টি অনলাইন হাট খোলা হয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে খামার মালিকরা তাদের পশুর ছবিসহ ওজন ও দাম উল্লেখ করছেন এবং সেখানে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বরও দেয়া হয়েছে। কুরবানীর পশু ক্রেতারা এসব মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করে পছন্দের পশুটি ক্রয় করতে পারবেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনলাইন “অনলাইন পশুরহাট, দিনাজপুর” এবং বিভিন্ন উপজেলার নাম দিয়ে “ অনলাইন পশুরহাট” নামে ফেসবুক পেজ খোলা হয়েছে। ক্রেতারা এসব পেজে প্রবেশ করে কুরবানীর জন্য পছন্দের পশুটি ক্রয় করতে পারবেন। তিনি জানান, যেহেতু এটি প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে, সেহেতু এখানে ক্রেতা-বিক্রেতার প্রতারিত হওয়ার কোন আশঙ্কা নেই। তিনি আরো জানান, এরই মধ্যে ৪৪২৩টি কুরবানীর পশু বিক্রি হয়েছে। যার টাকার পরিমান ৩১ কোটি ৬০ লাখ ৯৬ হাজার টাকা।
উল্লেখ্য, দিনাজপুর জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর কুরবানীর জন্য জেলার ৫৮ হাজার ৫৫টি খামারে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৭৮৩টি পশু প্রস্তুত হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ২৪ হাজার ২১৬টি গরু এবং ৭৪ হাজার ৫৬৭টি ছাগল ও ভেড়া। আর দিনাজপুর জেলায় এবারে কুরবানীর চাহিদা রয়েছে ৯১ হাজার ১২৭টি গরু ও ৫৩ হাজার ১৪১টি ছাগল ও ভেড়া। জেলার চাহিদা মিটিয়ে প্রায় ৫৫ হাজার গরু ও ছাগল দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা সম্ভব বলে জানায় জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

     More News Of This Category