আজ শুক্রবার,২৪শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,সকাল ১০:১৭

ব্রেকিং নিউজ

বীরগঞ্জে বলীনের পথে মৃৎশিল্প

News

খায়রুন নাহার বহ্নি, বীরগঞ্জ(দিনাজপুর)প্রতিনিধিঃ দুঃখ-কষ্টের মাঝে দিন কাটলেও বীরগঞ্জে মৃৎ শিল্পীরা এখনও স্বপ্ন দেখেন কোনো একদিন আবারও কদর বাড়বে মাটির পণ্যের। ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের কদর কমছে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায়। আধুনিকতার ছোঁয়ায় ও চাহিদার স্বল্পতাসহ নানা কারণে বিলুপ্তের পথে এ শিল্প। তার মধ্যে মহামারি আকার ধারণ করেছে করোনা ভাইরাস। বীরগঞ্জের মৃৎশিল্পীরা এখন অনেক কষ্টে আছে।

উপজেলার সাতোর ইউনিয়নের প্রাণণনগর গ্রামের গোয়ালপাড়া ও মোহনপুর ইউনিয়নের কুমোরপাড়া গ্রামের প্রায় বেশির ভাগ পরিবারই মাটির জিনিস তৈরির কাজ করতেন। মাটির হাড়ি, মাটির খেলনা সামগ্রী, ফুলের টব, ডেসকি, কলস, কড়াই, দইয়ের বাটিসহ বিভিন্ন ধরণের মাটির জিনিসপত্রে ফুটে ওঠে কারিগরের হাতের অপরূপ কারুকাজ।বিভিন্ন মেলা বা অনুষ্ঠানে পরসা বসিয়ে বিক্রি করে থাকে কুমোররা।

জানা গেছে কল্লোল, দিপালী, প্রতিমা, হৈমতী, সাবিত্রি, কাঁচা মালের দাম বাড়তি হওয়ায় কারিগররা মাটির জিনিস তৈরি করে আশানুরূপ লাভও করতে পারছে না। তাই জীবন ও জীবিকার তাগিদে অনেকে পরিবর্তন করছে পূর্ব পুরুষের ঐতিহ্য ‘কুমার পেশা’।

বর্তমান বাজারে এখন আর আগের মতো মাটির জিনিসপত্রের চাহিদা না থাকায় এর স্থান দখল করে নিয়েছে দস্তা, অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাষ্টিকের তৈজষপত্র। ফলে বিক্রেতারা মাটির জিনিসপত্র আগের মতো আগ্রহের সঙ্গে নিচ্ছে না। তাদের চাহিদা নির্ভর করে ক্রেতাদের ওপর। সে কারণে অনেক পুরোনো শিল্পীরাও পেশা বদল করতে বাধ্য হচ্ছে। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মাটির জিনিসপত্র তার পুরোনো ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলছে। ফলে এ পেশায় যারা জড়িত এবং যাদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন মৃৎ শিল্প তাদের জীবন যাপন একেবারেই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

মৃৎশিল্পী জানায়, বর্তমানে এই গ্রামে মাত্র ১০/১৫ টা পরিবার যুক্ত আছে এই পেশায়। আগের মতো লাভ না হওয়ায় এই ব্যবসা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে কারিগররা। ঠিকমতো ভরণ-পোষণ দিতে পারছেনা কর্মীদের।

এতে একদিকে কারিগরেরা সংকটে পড়ছে পরিবার নিয়ে, অন্যদিকে দেশ হারাতে বসেছে নিজস্ব ঐতিহ্য। তাই মৃৎশিল্পকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে সরকারি সহায়তার দাবি সংশ্লিষ্টদের। মৃৎশিল্পীদের মধ্যে আন্ধারু কুমার পাল বলেন, “সবাই নাম নিয়া যাছে বাহে! কিন্তু কিছুই ফের দেয়না হামাক; বেলে করোনা ভাইরাস নাকি আইছে, কি করিমো আর কি খামো হামরা আর কোনঠে না যামো”।

মৃৎশিল্প বাঁচাতে এবং এর সাথে সংযুক্ত কয়েটি পরিবারের জীবিকা রক্ষায় এগিয়ে আসবে কর্তৃপক্ষ এমনটাই প্রত্যাশা সবার। এ ব্যাপারে অত্র গ্রামের কুমোর সমিতির সভাপতি রাজেশ কুমার পাল বলেন, বাপ-দাদার কাছে শেখা আমাদের এই জাত ব্যবসা আজও আমরা ধরে রেখেছি। এই কুমোরপাড়ার আশপাশের এলাকায় এক সময় মাটির তৈরি জিনিসের ব্যাপক চাহিদা ছিল কিন্তু বর্তমানে বহুমুখী সমস্যা আর পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে আজ সংকটের মুখে পড়েছে এই মৃৎশিল্পটি।

     More News Of This Category